ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় ফেনীতে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষতচিহ্ন। কৃষি ও মৎস্য বিভাগের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, এবারের বন্যায় ১ হাজারেরও বেশি মৎস্য ঘের ও পুকুর এবং ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। মোট ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্রোতে ভেঙে গেছে বিভিন্ন সড়ক। অনেক সড়ক এখনো পানির নিচে। কিছু বাড়িঘরে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন অনেকে।
পরশুরামের চিথলিয়া এলাকার বাসিন্দা মাসুম চৌধুরী বলেন, সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে ঘর বানিয়েছিলাম। একদিনও থাকতে পারিনি। পানি ঢুকে ঘরটি চোখের সামনে ভেসে যায়।
ফুলগাজীর উত্তর শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আশরাফ বলেন, নদীর পাড়ে থাকি বলে প্রতি বছরই এ দুঃখ সইতে হয়। বার বার সব তছনছ হয়ে গেলে আমরা কীভাবে বাঁচবো?
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার বলেন, নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর এলাকায় পানি বাড়ছে। পানি নামার পর বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া যাবে। কৃষি ও মৎস্যের যা পাওয়া গেছে এগুলো প্রাথমিক তথ্য। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটু সময় লাগবে।
মঙ্গলবার থেকে সৃষ্ট বন্যায় ফেনীর ৫ উপজেলার ১০৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ৮২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ হাজার ৫০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি আছে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ।








































আপনার মতামত লিখুন :