টাঙ্গাইলে মোশারফ হোসেন (৪২) নামে এক যুবকের সঙ্গে নাজমা আলম নামে এক নারীর ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি মোশারফ হোসেন ১৫ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হন। পরে নাজমার কাছে ১ লাখ টাকা ধার চান মোশারফ। টাকা দিতে অস্বীকার করায় নাজমাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন তিনি।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানিয়েছেন মোশারফ নিজের স্বীকারোক্তিতে এমন তথ্য বলেছেন। রুহুল আমিন জানান, এই ধারের টাকা না দেওয়ার কারণে নাজমা আলমকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর গলার চেইন, হাতের বালাও নিয়ে যান মোশারফ।
এদিকে নাজমা আলমকে (৫১) হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত মসজিদের মোয়াজ্জেম মোশারফ হোসেন ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে। মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে। এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের অংশ, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল থানায় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছি। প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোশারফ নাজমাকে হত্যা করে এবং সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের শিবনাথ পাড়া এলাকার ডাক্তার শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী নাজমা আলমের হাত বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন নাজমা হতার বিচার চেয়ে সাংবাদিকদের কাছে জোরালো বক্তব্য দেন খুনি মোশারফ হোসেন। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।



































আপনার মতামত লিখুন :