শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পাঠপীঠ তিতাস বহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রমত্তা মেঘনার কোলঘেষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা। কৃষি ও প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় দেশবরেণ্য অগণিত কৃতি সন্তানের জন্ম হয়েছে। যাদের পদচারণা দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী। এই উপজেলায় জন্ম নেয়া গর্বিত কৃতি সন্তানেরা দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমে অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নানাভাবে অবদান রেখে চলেছেন। বয়স্কদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও স্মার্ট বাঞ্ছারামপুর বিনির্মাণে কাজ করছেন। তাদেরই একজন উপজেলার আইয়ুবপুর গ্রামের সাইদুর রহমান সাঈদ। ইতোমধ্যে তিনি তার মেধা, মনন, প্রজ্ঞা ও কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তরুণ প্রজন্মের আইকন সাইদুর রহমান সাঈদ ১৯৮৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আইয়ুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আব্দুল লতিফ এবং মাতা আয়েশা বেগম। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
পড়াশুনার শুরুটা আইয়ুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছাত্রজীবনে তিনি খুবই মেধাবী ছিলেন। বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়েছেন। ২০০৩ সালে বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশ নেভি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে ২০১১ সালে আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি বিএসসি ইন টেক্সটাইল অর্জন করেন।

পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। তারপর নানা ঘাত প্রতিঘাত, হামলা-মামলা সহ্য করে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে দলের দিকনির্দেশনা মোতাবেক কাজ করেন। বিশেষ করে ১/১১ এর পর রাজধানী ঢাকায় প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তার ছিল সরব উপস্থিতি। একইভাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনন্য ভূমিকা পালন করেন। বিগত সময়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাইদুর রহমান বিগত সময়ে বলতে গেলে আওয়ামী লীগের আমলে নানাভাবে নির্যাতিত ছিলেন। তার নামে দুইটি গায়েবি মামলা দেয়া হয়। তাছাড়া বিএনপির রাজনীতি থেকে তাকে নিষ্ক্রিয় রাখতে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয়া হয়। তারপরও তিনি তার নীতি ও আদর্শে অবিচল ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা বাস্তবায়ন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি এবং তারেক রহমানের দিকনির্দেশা মোতাবেক রাজপথের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। এতে তার সময় ও প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। তাছাড়া এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়ে দলের পক্ষে মাঠে ময়দানে কাজ করে গেছেন সাইদুর রহমান সাঈদ।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা সাইদুর রহমান। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আইয়ুবপুর ইউনিয়নে দলের মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ভোটের দিন তিনি আইয়ুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে কেন্দ্রে অবস্থান করেন। একইভাবে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও আইয়ুবপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রচার প্রচারণাসহ সাবেক এমপি আবদুল খালেক এর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন। এতে করে তার প্রচুর অর্থ ব্যয় হওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাকে নাজেহাল করা হয়। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। তখন রাজধানী ঢাকার প্রতিটি আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। ২০১৮ সালে নির্বাচনের দিন আইয়ূবপুরে নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। ধানের শীষ এর প্রার্থী জনাব আব্দুল খালেক সাহেবের কেন্দ্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পায় আইয়ুবপুর কেন্দ্র থেকে। পরে বিএনপি অবশ্য ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রাম পাড়া মহল্লায় দলের পক্ষে কাজ করেন তিনি। বলতে গেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ সাইদুর রহমান।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত। এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আইয়ুবপুর কবি নজরুল পাঠাগারের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শিশু কিশোরদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই পাঠাগার বিশেষ ভূমিকা রাখছে। পাঠাগার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন তিনি। শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে খেলাধূলায়ও পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন। একই সাথে নিজের সাধ্যমতো মসজিদ মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সাইদুর রহমান সাঈদ ঢাকাস্থ বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রছাত্রী মৈত্রী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া বাঞ্ছারামপুর এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এক্স স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন এরও সভাপতি হিসেবেও দ্বায়িত্ব পালন করেন। একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবেও মৈত্রী সমিতিকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। আগামীদিনে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি সুন্দর আইয়ুবপুর ইউনিয়ন গড়তে চান। তিনি সকলের দোয়া কামনা করছেন।








































আপনার মতামত লিখুন :