ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ককেশাস অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা তৈরি হওয়ার কয়েক দিন পর মঙ্গলবার ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে আজারবাইজান। এটিকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাকু গত সপ্তাহে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর অভিযোগ তোলে। অভিযোগ করা হয়, ইরানি ড্রোন একটি বিমানবন্দরে আঘাত হানে এবং একটি স্কুলের কাছে বিস্ফোরিত হয়। এতে ইরান সীমান্তবর্তী আজারবাইজানের নাখিচেভান অঞ্চলে চারজন আহত হন।

এর পরপরই আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ সশস্ত্র বাহিনীকে প্রতিশোধমূলক প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন এবং বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। একই সঙ্গে ইরান থেকে দেশটির কূটনীতিকদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে ইরানের সামরিক বাহিনী ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং আজারবাইজানের মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলে।
এর মধ্যেই উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে আজারবাইজানের জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, ৮ মার্চ দুই দেশের প্রেসিডেন্টের টেলিফোন আলাপের পর ইরানে কয়েক টন খাদ্য ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে।
এর আগে আলিয়েভের দপ্তর জানিয়েছিল, রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান তাকে ফোন করে ড্রোন হামলার ঘটনা তদন্তের আশ্বাস দেন এবং বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, আলিয়েভ ঘটনাটি তদন্তের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং দুই নেতা যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশই সংকট আরো বাড়তে না দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আজারবাইজানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী ইসরায়েল গোয়েন্দা কার্যক্রম ও সম্ভাব্য হামলার জন্য আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় হামলা চালানোর পর বাকু তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া ইরানে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি জাতিগত আজারিদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব নিয়ে তেহরানের দীর্ঘদিনের উদ্বেগও রয়েছে।








































আপনার মতামত লিখুন :