উগান্ডায় গিয়ে খাবার নিয়ে বেশ কষ্টই পেয়েছিলাম। বিশেষ করে রাজধানী কামপালার খাবার আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে নানা ধরনের খাবার চেখে দেখার সুযোগ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার তুলনায় উগান্ডার খাবার আমার রুচির সঙ্গে খুব একটা মানিয়ে নিতে পারেনি। বরং খাবারের কথা মনে পড়লে উগান্ডার প্রতি আমার প্রথম স্মৃতিগুলোর একটি হলো—খাবার নিয়ে হতাশা।
একদিন শুনলাম, কামপালার আকাশিয়া মলে নাকি দারুণ একটি মেক্সিকান রেস্তোরাঁ হয়েছে। ভাবলাম, স্থানীয় খাবারের বাইরে গিয়ে এবার একটু ভিন্ন স্বাদের কিছু খাওয়া যাক। আকাশিয়া মলে গিয়ে মেক্সিকান খাবারের বেশ কয়েকটি পদ চেখে দেখলাম। খাবারের পাশাপাশি জায়গাটির পরিবেশও বেশ ভালো লেগেছিল।

কামপালার মধ্যে আকাশিয়া আমার কাছে একটু আলাদা। সুন্দর, পরিপাটি ও আধুনিক পরিবেশ। অনেকটা আমাদের ঢাকার গুলশানের মতো। তবে আমার মনে হয়েছিল, সেখানে যদি মেক্সিকান সংগীত বা নাচের আয়োজন থাকত, তাহলে খাবারের অভিজ্ঞতাটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত। মেক্সিকান খাবারের সঙ্গে সেই সংস্কৃতির আবহও থাকলে জায়গাটির আবেদন নিঃসন্দেহে বাড়ত।
তবে আকাশিয়ার ঝকঝকে পরিবেশ থেকে বাইরে বের হলেই কামপালার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র সামনে আসে। রাস্তায় প্রচণ্ড ভিড়, দারিদ্র্য, অপরিচ্ছন্নতা আর নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে শহরটির আরেক বাস্তবতা চোখে পড়ে। কিছু কিছু জায়গা আমার কাছে বাংলাদেশের চেয়েও বেশি অগোছালো ও নোংরা মনে হয়েছে।
একই শহরের মধ্যে এমন বৈপরীত্য আমাকে সবসময়ই ভাবিয়েছে। একদিকে আধুনিক বিপণিবিতান, উন্নতমানের রেস্তোরাঁ ও সাজানো পরিবেশ; অন্যদিকে রাস্তার পাশেই দারিদ্র্য, ভিড় ও অপরিচ্ছন্নতা। উন্নয়ন যে কেবল কিছু নির্দিষ্ট জায়গার সৌন্দর্য নয়, বরং মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত—কামপালার বাস্তবতা যেন সেই কথাটিই মনে করিয়ে দেয়।
আজ হঠাৎ উগান্ডার কথা মনে পড়তেই খাবারের সেই অভিজ্ঞতাও মনে পড়ে গেল। সত্যি বলতে, এতগুলো দেশে ঘুরেছি, কিন্তু খাবারের দিক থেকে যেসব দেশের খাবার আমার সবচেয়ে কম ভালো লেগেছে, উগান্ডা তাদের মধ্যে অন্যতম। তারপরও উগান্ডার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা কেবল খাবারের স্মৃতিতে আটকে নেই। দেশটির আনাচে-কানাচে এতবার যাওয়া হয়েছে যে, ভ্রমণের ক্ষেত্রে উগান্ডার ‘ফাসেক্টারি’ একসময় আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে উঠেছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভিসা পাওয়ার সুবিধার কারণে আফ্রিকা ভ্রমণের পরিকল্পনায় উগান্ডাকে আমি বারবার মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করেছি।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে উগান্ডা আমার জন্য যেন একটি দরজা হয়ে কাজ করেছে। সেখান থেকে একের পর এক আফ্রিকান দেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ফলে খাবার আমাকে যতটা হতাশ করেছে, ভ্রমণের সুবিধা ও অবস্থানগত গুরুত্ব ততটাই উগান্ডাকে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আসলে সবসময় একরকম হয় না। কোনো দেশ হয়তো খাবারের জন্য মনে থাকবে, কোনো দেশ মানুষের আতিথেয়তার জন্য, আবার কোনো দেশ মনে থাকবে তার প্রকৃতি কিংবা অদ্ভুত কোনো অভিজ্ঞতার কারণে। উগান্ডা আমার কাছে তেমনই এক দেশ—খাবারে তেমন সন্তুষ্ট করতে না পারলেও আফ্রিকা ভ্রমণের পথে বারবার ফিরে আসার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা।































আপনার মতামত লিখুন :