ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নকে অলি আউলিয়ার পূণ্যভূমি বলা হয়। তাছাড়া শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিকভাবে উপজেলার অন্যতম সেরা ইউনিয়ন হলো ছয়ফুল্লাকান্দি। এই ইউনিয়নে দেশ বরেণ্য অগণিত কৃতি সন্তানের জন্ম হয়েছে। এখানে জন্মগ্রহণ করেছেন আধ্যাত্মিক সাধক শাহ রাহাত আলী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম এমপি, সাবেক এমপি মরহুম এটিএম ওয়ালী আশরাফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম রেজা, সাবেক যুগ্মসচিব মতিউর রহমান, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডাক্তার মাহবুবুল হক, যুগ্মসচিব ডক্টর এ এফ এম আমির হোসেন, বসুন্ধরা গ্রুপের জৈষ্ঠ্য নির্বাহী পরিচালক ময়নাল হোসেন চৌধুরী, কর্ণেল মুর্তুজ আলী, ডিআইজি মো. ফারুক আহমেদ, ডিআইজি মো. নাসিরউদ্দিন নাসির, যুগ্ম দায়রা জজ মোহাম্মদ শেখ সাদী, বাউল শিল্পী ফারুক সরকার সহ আরও অনেকে। এই ধারাবাহিকতায় পাড়াতলী গ্রামের গর্বিত সন্তান ওমর ফারুক সুমন আজ এক উজ্জ্বল নাম। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাড়াতলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা আব্দুল জলিল (জয়নাল) এলাকায় একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে পরিচিত।
পারিবারিকভাবে ওমর ফারুক সুমনের পরিবারটির সামাজিক মর্যাদা ও ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। তার দাদা এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে এই পরিবারের বেশ অবদান রয়েছে।
বাঞ্ছারামপুরে একজন সামাজিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ওমর ফারুক সুমন। উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়। নিজের মেধা, দক্ষতা ও অদম্য পরিশ্রমের মাধ্যমে ওমর ফারুক সুমন নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হন। কর্মজীবনে তার সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রমই তাকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ব্যবসার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলিতে হয়ে উঠেছেন ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নবাসীর আপনজন। তাঁর স্বপ্ন একটি সুন্দর, আধুনিক উন্নত সমৃদ্ধ ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিনির্মাণ। ঈদ, পূজা পার্বণ কিংবা সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই তিনি মানুষের পাশে থেকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মানুষ ওমর ফারুক সুমনকে মানুষ চেনে একজন বিনয়ী, সজ্জন ও উদার হৃদয়ের মানুষ হিসেবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য এক নাম।
মানুষ ও মানবতার কল্যাণে নিবেদিত এই মানুষটির নেতৃত্বে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের উন্নয়নযাত্রা আরও বেগবান হবে এমন প্রত্যাশাই আজ তাঁর প্রিয়জন ও শুভানুধ্যায়ীদের। আর সেই কারণেই আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজন সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ওমর ফারুক সুমন নামটি উচ্চারিত হচ্ছে। এই ইউনিয়নের শিক্ষা ও যুব উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন তিনি। মানসম্মত শিক্ষা, কারিগরি ও বাস্তবমুখী দক্ষতা, উদ্যোক্তা তৈরি এবং যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করার পাশাপাশি একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন গড়তে বিভোর ওমর ফারুক সুমন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক ওমর ফারুক সুমন দীর্ঘদিন যাবত বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার চিন্তা চেতনা, ভাবনা ও কল্পনায় ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নকে বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত করা। একই সাথে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে এই ইউনিয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ৩,৬৯৭ একর বা ১৪.৯৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের শরিফপুর, ফতেপুর, দরিভেলানগর, ভেলানগর, মাছিমনগর, কাঞ্চনপুর, মধ্যনগর, ডোমরাকান্দি, ছয়ফুল্লাকান্দি ও পাড়াতলি গ্রামের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ওমর ফারুক সুমনের ব্যাপক প্রচার প্রচারণা লক্ষ্যনীয়। বলতে গেলে পুরো ইউনিয়নেই ওমর ফারুক সুমনের জোয়ার বইছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই ইউনিয়ন থেকে বেশ কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও জনমত জরীপে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন ওমর ফারুক সুমন।
বর্তমানে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মোট ভোটার ২৪ হাজার ২শত ৯০জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ১শত ৫জন, মহিলা ভোটার ১২ হাজার ১শত ৮৫জন।
ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন পূর্বে ছয়ফুল্লাকান্দি পশ্চিম ইউনিয়ন নামে পরিচিত ছিল। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পূর্বাংশে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের অবস্থান। এই ইউনিয়নের উত্তরে তেজখালি ইউনিয়ন; পশ্চিমে দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন; দক্ষিণে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন, রূপসদী ইউনিয়ন ও ফরদাবাদ ইউনিয়ন এবং পূর্বে দরিকান্দি ইউনিয়ন অবস্থিত।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. আব্দুল বাতেন। তারপর ১৯৭৭ সালে মো. এমদাদুল হক, ১৯৮২ সালে মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম আশরাফ, ১৯৮৭ সালে মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম আশরাফ, ১৯৯২ সালে মো. সফিকুল ইসলাম, ১৯৯৭ সালে মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম আশরাফ, ২০০২ সালে মো. শাহজাহান মিয়া, ২০১১ সালে মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম আশরাফ। তারপর আকস্মিকভাবে আনোয়ারুল ইসলাম আশরাফ চেয়ারম্যান মৃত্যুবরণ করলে উপ নির্বাচনে বিজয়ী হন তারই বড় ছেলে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তুষার। পরে টানা ৩বার মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তুষার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পরে ইউনিয়নে পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তুষার। ওই সময় উপ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম এমপির কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের আব্দুল করিম চেয়ারম্যান।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকে প্রচার প্রচারণা কিংবা সভা সমাবেশে দেখা যায়নি। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বেশ এগিয়ে রয়েছেন ওমর ফারুক সুমন, এমনটাই জানিয়েছেন এখানকার সাধারণ ভোটাররা। দল মত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ওমর ফারুক সুমনকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। পুরো ইউনিয়নে মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ওমর ফারুক সুমনও দলীয় কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি ভোটারদের সাথে মতবিনিময় ও দেখভাল করছেন।
নির্বাচনে বিজয়ী হলে উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্তি করেন ওমর ফারুক সুমন। তিনি ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন।




















আপনার মতামত লিখুন :