টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গোপনে সালিশ বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতাপেটা করা হয়। ওই বৈঠক থেকে ঘটনার মীমাংসা হয়েছে বলে মামলা না করার জন্য বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীর পরিবারকে চাপ দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে গোপালপুর থানায় মামলা করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির পাশের বোরো ধানক্ষেতে কাজ করতে যান ওই নারী। এ সময় তাঁকে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দা ইউনিয়নের বাসিন্দা একাব্বর আলী। পরে ওই নারীর কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
ধর্ষণের শিকার নারীর চাচি জানান, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর থেকে ওই নারী তাঁর মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন। তাঁর মা, ভাইও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ঘটনার পরপরই এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের থানা বা হাসপাতালে যেতে বাধা দেন। ওই রাতেই অভিযুক্ত একাব্বরের ছোট ভাই শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীকে পাশাপাশি বসিয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘটনাটি বর্ণনা করতে চাপ দেওয়া হয়। লজ্জা ও ভয়ের কারণে ওই নারী কথা বলতে সংকোচ বোধ করলে তাঁকে ধমক দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে আপসের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। সালিশে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জুতাপেটা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে নিষেধ করা হয়।
এদিকে ওই নারীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে শুক্রবার বিকেলে তাঁকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, শনিবার দুপুরে থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।








































আপনার মতামত লিখুন :