binodonerpadmaful
ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হলেন খোকসার বৈজয়ন্ত বিশ্বাস


বিনোদনের পদ্মফুল | স্টাফ রিপোর্টার নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০১:২৭ পিএম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হলেন খোকসার বৈজয়ন্ত বিশ্বাস

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সন্তান বৈজয়ন্ত বিশ্বাস ভিক্টর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থেকে পদোন্নতি পেয়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (গ্রেড-২) পদে উন্নীত হয়েছেন। এই পদোন্নতির মাধ্যমে তিনি এখন ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ‘জাস্টিস অব পিস’ বা শান্তিরক্ষাকারী বিচারপতি হিসেবে অভিহিত হবেন। তার এই সাফল্যে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্খিদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।
বৈজয়ন্ত বিশ্বাস ভিক্টর খোকসা কলেজের প্রাক্তন স্বনামধন্য অধ্যাপক বাদল চন্দ্র বিশ্বাসের জ্যেষ্ঠ পুত্র। পারিবারিকভাবেই তিনি সততা ও শিক্ষার আদর্শে বড় হয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করে বাংলাদেশের বিচার বিভাগে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি মেধা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন।
বিচারিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বৈজয়ন্ত বিশ্বাস কেবল প্রথাগত রায় এবং আদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। বিভিন্ন আলোচিত মামলায় যুগান্তকারী সব রায় ও আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নানাবিধ জটিল সমস্যা সমাধানেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন যা প্রায়শই মিডিয়া এবং সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বৈজয়ন্ত বিশ্বাস ভিক্টর গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী কয়েকটি রায় দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে জেলা প্রশাসকসহ ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি (২০১২), আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে ও সাধারণ সম্পাদকের ভাগ্নেকে কারাগারে প্রেরণ (২০১৪), একজন পুলিশ সুপারকে তলব (২০১৬), এবং ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য (২০২৩) এবং সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়রের (২০২৪) জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ।
এ ছাড়াও, তিনি দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটক থাকা বাক প্রতিবন্ধী মৃণালকে (২০২১) এবং হারিয়ে যাওয়া রুবেলকে (২০১৫) পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো মানবিক কাজ করেছেন।
বিচারিক কাজের পাশাপাশি তিনি খোকসা বাসস্ট্যান্ডে অবৈধ আইল্যান্ড উচ্ছেদ এবং রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন স্টপেজ প্রদানের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজেও ভূমিকা রেখেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিনয়ী ও সাদামাটা জীবনযাপনের জন্য তিনি স্থানীয়দের কাছে ‘আদর্শ মানুষ’ হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা মনে করেন, তার এই পদোন্নতি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার স্বীকৃতি। নতুন দায়িত্বে তিনি দেশের বিচার ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে সকলের প্রত্যাশা।

Side banner