binodonerpadmaful
ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নেপথ্যে মানব পাচারকারী ও দেশবিরোধী চক্র

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র


বিনোদনের পদ্মফুল | মেহেদী হোসেন মে ১৫, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র

বাংলাদেশী কর্মীদের কাছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে পছন্দের এবং নির্ভরযোগ্য শ্রমবাজার হলো মালয়েশিয়া। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সেখানকার উন্নত বেতন কাঠামো এবং জীবনযাপনের চমৎকার পরিবেশ, যা বাংলাদেশীদের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় সকল সেক্টরের বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। অভিবাসন প্রত্যাশী কর্মীদের জন্য এই অংকটি যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি সেখানকার কর্ম-পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত মানসম্মত।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, একটি স্বার্থান্বেষী অসাধু চক্র এবং চিহ্নিত মানব পাচারকারী গোষ্ঠী এই শ্রমবাজারটি বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে সরকার এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই শ্রমবাজার নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এটি একদিকে যেমন বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ, অন্যদিকে মালয়েশিয়াগামী হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
একজন দায়িত্বশীল রিক্রুটিং ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা জানি, এই আকর্ষণীয় শ্রমবাজারের বাইরে অন্য অনেক দেশে বেতন কম হওয়ার কারণে কর্মীরা অনাগ্রহী থাকে। তাই অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য কোম্পানিগুলো নিয়েই কাজ করতে আগ্রহী, যেখানে কর্মীর ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে। মূলত, এই বৈধ বাজার সচল থাকলে মানব পাচারকারীরা তাদের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। ফলে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এই বাজারটি নস্যাৎ করতে চায়।
এই পাচারকারী চক্রের অন্যতম প্রধান কৌশল হলো টুরিস্ট ভিসার আড়ালে মানব পাচার। তারা সহজ-সরল কর্মীদের টুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখায়। তারা কর্মীদের আশ্বস্ত করে যে, মালয়েশিয়া যাওয়ার পর সেখানকার সরকার সকল অবৈধ কর্মীকে বৈধ করে নেবে। এই মিথ্যে আশ্বাসের ফাঁদে পড়ে হাজার হাজার কর্মী সর্বস্ব হারিয়ে বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যখন এই অবৈধ কর্মীরা আইনি জটিলতায় পড়ে, তখন দায়ভার চাপে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সরকারের ওপর। এই সুযোগে পাচারকারীরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য লাগাতার অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের স্বার্থে এবং রেমিটেন্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তার খাতিরে আমাদের কিছু কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সরকারের কাছে আমাদের উদাত্ত আহ্বান থাকবে—ভবিষ্যতে বৈধকরণের ক্ষেত্রে যেন কেবল সেইসব কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হয়, যারা বিএমইটি (ইগঊঞ) ছাড়পত্র নিয়ে বৈধ পন্থায় মালয়েশিয়া গিয়েছেন। যারা বিএমইটি স্মার্ট কার্ড বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবৈধ পথে বা টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে, তাদের ক্ষেত্রে দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার সহযোগিতা বা আইনি সুবিধা প্রদান করা উচিত নয়। এতে করে যেমন অবৈধ অভিবাসন কমবে, তেমনি মানব পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে।
দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। মালয়েশিয়ার এই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই শ্রমবাজার কেবল কিছু মানুষের ব্যবসা নয়, এটি এদেশের হাজারো পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার।
লেখক:
মেহেদী হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, জেআরএন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ২৮৩০)
সহ-দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সিস ফোরাম (BRAF)

Side banner