binodonerpadmaful
ঢাকা শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২
ডিএমপি কমিশনার

ঢাকায় ১৭৭১ ঈদ জামাত, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই


বিনোদনের পদ্মফুল | নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম ঢাকায় ১৭৭১ ঈদ জামাত, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই

ঢাকায় ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। একই সঙ্গে ঈদ জামাত ঘিরে কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী ‘যথেষ্ট প্রস্তুতি’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।
মো. সরওয়ার বলেন, বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত হবে। প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ঢাকার অন্যান্য সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
ঈদে নিরাপত্তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তার শঙ্কা নেই, তারপরও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মনিটরিং করছে। যদি কিছু হয় আমাদের জানাবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে।
জাতীয় ঈদগাহে ‘কয়েক স্তরের নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিরেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশেপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে।
ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশমুখ মৎসভবন, প্রেস ক্লাব এবং শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যেন অন্যান্য গাড়ি ঈদগাহ ময়দানের আশপাশের রাস্তায় না আসে। সেখানেও আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিরেক্টর থাকবে।
ঈদগাহের চারপাশে তল্লাশি ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশেপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম তৎপর থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পুরো এলাকা ঘিরে অন্য একটি বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
মো. সরওয়ার আরও বলেন, আমাদের অন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় থাকবে। সে অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা কাজ করবে। ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত থাকবে এবং মেডিকেল থেকে ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম থাকবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারম ঘিরে পৃথক কিন্তু ‘প্রায় কাছাকাছি’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় ঈদগাহ ঘিরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেস ক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেছনের গলি, ইউবিএল বা পল্টন ক্রসিং, পুলিশ কন্ট্রোল রুম গ্যাপ, মৎসভবন ক্রসিং এলাকায় পুলিশের ডাইভারশন থাকবে। এসব এলাকা থেকে মুসল্লিদের পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হবে।
নির্ধারিত পার্কিং স্থানের বাইরে গাড়ি নিয়ে আশেপাশে ঢোকার চেষ্টা না করতে সবাইকে অনুরোধ করেন তিনি।
নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহে আসা মুসল্লিদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কাজে সহায়তা করতে হবে। গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। ব্যাগ বা অন্য কোনো কিছু বহন করা যাবে না। সন্দেহজনক কোনো কিছু মনে হলে পুলিশকে বা ৯৯৯ নম্বরে জানাতে হবে।

Side banner