binodonerpadmaful
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

পাম্পে ঢুকলেই লেখা ‘অকটেন নাই’


বিনোদনের পদ্মফুল | নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম পাম্পে ঢুকলেই লেখা ‘অকটেন নাই’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ঈদের ছুটি পেরিয়ে চাহিদা আরও বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তা সংকটের কথা উল্লেখ করে যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে পাম্প মালিকদের সংগঠন, যা সাধারণ মানুষ ও চালকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরের দিকে রাজধানীর বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে অধিকাংশ পাম্প বন্ধ এবং খোলা পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।


রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বাড্ডা লিংক রোডে অবস্থিত সিটিজেন পেট্রোল পাম্পটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পাম্পটির সামনে ‘অকটেন নাই’ লেখা সংবলিত একটি সাইনবোর্ড রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর বাড্ডার মক্কা পেট্রোল পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ চালু থাকলেও সেখানে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। উত্তর বাড্ডা থেকে শুরু হওয়া এই সারি গিয়ে শেষ হয়েছে বাড্ডা লিংক রোড পর্যন্ত, ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজত ও ভোগান্তি।
মক্কা পেট্রোল পাম্পের লাইনে অপেক্ষারত শোভন দাস বলেন, ‘দেড় ঘণ্টা আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সামনে গাড়ি গুনে দেখি এখনও ১৫৬ নম্বরে আছি। কখন তেল পাবো, আদৌ পাবো কি না সেটাও বুঝতে পারছি করছি না।’ একই লাইনে থাকা আরেক ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিনই তেলের জন্য এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কাজকর্ম ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে থাকতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জন্য চলাচলই কঠিন হয়ে যাবে।’
এছাড়া মহাখালী থেকে জাহাঙ্গীরগেটের দিকে এগিয়ে ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ তেল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, মহাখালীমুখী সড়কে তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই পাম্পে কর্মরত এক কর্মী বলেন, ‘তলে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে খোলা থাকা পাম্পগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। টানা তেল দিলেও কিন্তু লাইন কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, ভিড় ততই বাড়ছে।’


তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক ইমতিয়াজ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি, পুরো দিনটাই চলে গেলো তেলের অপেক্ষায়। বলা হচ্ছে সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবে পাম্পে পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক জায়গায় গিয়ে শুনতে হচ্ছে তেল শেষ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
এদিকে রবিবার (২২ মার্চ) রাতে এক বার্তায় বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংগঠনের ফেসবুক পেজের বার্তায় বলা হয়, সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। কারণ তারা অয়েল কোম্পানিগুলো থেকে প্রতিদিন যে তেল পাচ্ছে তা দিয়ে বর্তমানে ক্রেতাদের যে চাহিদা সেটা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ওই বার্তায় আরও বলা হয়, এখন বাস্তবতা এমন যে দেশে যে কোটি কোটি মোটরসাইকেল চালক বা ব্যবহারকারী আছেন, তারা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত, বিরক্ত এবং তিক্ত হয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলোর তেল প্রদানকারী নজেলম্যান যারা এই বিরক্ত ক্রেতাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, গন্ডগোল করতে করতে আর পেরে উঠছে না। আসলে এভাবে বিরামহীন ডিউটি করার অভ্যাসও তাদের নেই। সব মিলিয়ে অবস্থা এখন এমনই হয়ে পড়েছে, যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

Side banner