binodonerpadmaful
ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
ভাঙারির দোকান থেকে ৫১০ কেজি রড উদ্ধার 

বাঞ্ছারামপুরে নিলাম ছাড়াই কালভার্ট বিক্রি!


বিনোদনের পদ্মফুল | সোহাইল আহমেদ মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম বাঞ্ছারামপুরে নিলাম ছাড়াই কালভার্ট বিক্রি!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে নিলাম ছাড়াই একটি পুরোনো কালভার্ট ভেঙে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মারাত্মক ঘাটতির একটি উদাহরণ এই ঘটনা। কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিলাম ছাড়াই কালভার্ট ভেঙে ফেলা এবং মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতে একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে হঠাৎ ভাঙার কারণে হাজারো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের বাঞ্ছারামপুর-কদমতলী-মরিচাকান্দি সড়কের কদমতলী উত্তরপাড়ায় পুরোনো একটি কালভার্টের স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী পুরোনো স্থাপনা উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রির কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।


রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব ঘোষণা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এতে নতুন কদমতলী, তাতুয়াকান্দি ও মরিচাকান্দি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও কবরস্থানে যাতায়াত হঠাৎ করেই ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালভার্ট ভাঙার পরপরই লোহার রডসহ মূল্যবান সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা অনিয়মের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সোনারামপুর বাজারের বাদশা মিয়ার ভাঙারির দোকান থেকে ৫১০ কেজি রড উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত রড নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় হবে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।
কদমতলী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকলিমা বেগম বলেন, সকালে এই রাস্তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে গিয়েছি, কিন্তু এখন কীভাবে ফিরব বুঝতে পারছি না। অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়েরা এই পথে চলাচল করে তাদের নিরাপদে পারাপার এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিকল্প রাস্তা ছাড়া এভাবে সরকারি সম্পদ অপসারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তাতুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, “বিকল্প রাস্তা না রেখে কালভার্টটি ভেঙে ফেলায় মসজিদ ও কবরস্থানে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। এমনকি লাশ দাফন নিয়েও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।” অন্তত অস্থায়ীভাবে মাটি দিয়ে একটি বিকল্প রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কালভার্টটি ভাঙা হচ্ছে বা কারা কাজ করছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এটি নিলামে দেওয়ার জন্য আমাদের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশেই কাজটি হচ্ছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আজ কাজ শুরু হয়েছে এ বিষয়ে আগে থেকে আমার জানা ছিল না। যারা কালভার্টটি ভেঙেছে, তারা এর মূল্য পরিশোধ করবে বলে জানিয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত একটি সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে এমন অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Side banner